Mukhomukhi Danrabar Eito Samay 2014

Production – Mukhomukhi Danrabar Eito Samay 2014

Posted on Posted in 2014, Program Production

মুখোমুখি দাঁড়াবার এইতো সময় ২০১৪

পরিবেশনাঃ ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা ‘আলমতাজ বেগম ছবি’-এর চিকিৎসার্থে
স্থানঃ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, সেগুন বাগিচা, ঢাকা
তারিখঃ শনিবার, এপ্রিল ১৪, ২০১৪
সময়ঃ সন্ধ্যা ৭ঃ০০ টা
আয়োজকঃ মুক্তধারা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র


সভাপতির কথাঃ

দেশের জন্য লড়াইয়ে জয়ী হয়ে এখন জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা আলামতাজ বেগম ছবি

আমার গবেষণা কাজের জন্য অনেকবার তার  তার কাছে গিয়েছি সাক্ষাতকার নেয়ার জন্য। ছবি আপার ভাসুরের ছেলের মাধ্যমে তার অসুস্থতার খবর পেয়েছিলাম। নিজের ব্যস্ততার কারণে আর দশজনের অসুস্থতার খবরের মত ছিল সে খবর। কিন্তু ৮ মার্চ ২০১৪ দৈনিক কালের কণ্ঠে ‘মুক্তযোদ্ধাদের ফ্রি চিকিতসায় তামাশা’ শিরোনামে উনার অবস্থা জেনে প্রচণ্ড কষ্ট পেলাম এবং নিজেরদের অপরাধী মনে হলো। তাদের কষ্টে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। যাদের জন্য আমরা পেয়েছি আমাদের দেশ, আমাদের জাতিয় পতাকা। তাদের কেন এই অবস্থা ও তাদের জন্য আমরা কী করছি? এই প্রশ্ন আমার নিজের কাছে, আমার রাষ্ট্রের কাছ।

২০০০ সালে আমাদের দেয়া এক সাক্ষাতকারে ছবি আপা বলেছিলেন “বঙ্গবন্ধুর ডাকে উজ্জীবিত হয়ে দেশকে স্বাধীন করার জন্য অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছি। ব্যক্তি জীবনে কোন কিছু পাব ভেবে যুদ্ধে যাইনি সেই সময় মনে হয়েছে যুদ্ধে যাওয়াই আমার কাজ। সনদপত্র, তালিকাভুক্তি, সম্মান ও সব ব্যাপারে আমার কোন আগ্রহ নাই। আমি লড়াই করা মানুষ এখন দুই মেয়েকে নিয়ে বাঁচার লড়াই করছি। কারো কাছে আমার কিছু চাওয়ার নাই।”

৮ মার্চ ২০১৪-এ তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধির কাছে তার চিকিতসার ব্যাপারে বলেছন- ‘সরকার তো দূরের কথা কাউকে তো আমি পাশে দেখছি না। এভাবে কি আমি হেরে যাব?’

লজ্জিত হলাম বিবেকের কাছে। আমাদের তো কিছু করার আছে। আমাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা যা করেছেন সে ঋণ তো মেটাতে পারব না কিন্তু একটু সম্মানতো জানাতে পারি। অন্তত আমারা তার পাশে আছি এটুকুতো করতে পারি। সংঘবদ্ধ সাংস্কৃতিক আন্দোলনে আমাদের অস্ত্র আবৃত্তি। আবৃত্তি দিয়েই তার পাশে দাঁড়াবার সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা। সহযোগিতা চাইলাম আবৃত্তি সংগঠনগুলোর বন্ধুদের ও আমাদের শুভানুধ্যায়ীদের কাছে। তাদের সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় আমাদের আজকের আয়োজন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আবৃত্তি প্রযোজনা “মুখোমুখি দাঁড়াবার এইতো সময়“।

সকল দর্শক শ্রোতাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। এই আয়োজনকে সফল করার প্রয়াসে যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরক্ষ্য ভাবে কথায়, কাজে , পরামর্শে ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

আনিসা জামান চাঁপা
সভাপতি, মুক্তধারা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র


আলমতাজ বেগম ছবিঃ
Alamtaj Begum Chobi
আলমতাজ বেগম ছবি

আলমতাজ বেগম ছবি একজন সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা। ঝালকাঠি জেলার রাজপুর উপজেলা শ্যাকরাইল গ্রামের হাবিবুর রহমান ও জাহানারা বেগম দম্পতির পঞ্চম সন্তান ছবির জন্ম ১৯৫৫ সালের ১ অক্টোবর।

১৯৭১ সালের ছবি বরিশাল শহরে জগদীশ স্বারস্বাত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন।

একাত্তরের মার্চের উত্তাল বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশবাসী ঝাঁপিয়ে পড়েছে মুক্তিযুদ্ধে। বড় ভাই হুমায়ুন কবির, মেঝো ভাই ফিরোজ কবির এবং ফিরোজ কবিরের সহপাঠী বন্ধু সেলিম শাহ্‌ নেওয়াজ মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিলে ছবি তাদের সহপাঠি হন। গাবখান পেয়ারা বাগানের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে অস্ত্র চালানো ও গেরিলাযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে সতীর্থ পুরুষ যোদ্ধাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশ নেন। চার মাস ছিলেন পেয়ারা বাগান, গারংগল, আটঘর, কুড়িয়াবা রণাঙ্গনে। সিরাজ শিকদারের নেতৃত্বে স্বরূপকাঠির সন্ধ্যা নদীতে ছবি সর্বপ্রথম পাক সেনাদের গানবোটে গ্রেনেড হামলা চালায় এবং ঐ হামলায় দশজন পাকসেনা ও তাদের দোসর মারা যায়।

দ্বিতীয়বার কমান্ডারের নির্দেশে ঝালকাঠির গাখান চ্যানেলে একাই গেরিলা পদ্ধতিতে পাক সৈন্যবাহী গানবোটে গ্রানেড ও হাত বোমা হামলা চালিয়ে সকল পাকসেনা হত্যা করেন। পরবর্তীতে একাধিকবার পাক সেনাদের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধ চলাকালেই একাত্তরের ২৮ মে যুদ্ধের ক্যাম্পেই কোন রকম আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সহযোদ্ধা ভাই-এর বন্ধু বরগুনার পারঘাটার সেলিম শাহ্‌ নেওয়াজের সঙ্গে ছবির বিয়ে সম্পন্ন হয়। পেয়ারা বাগান অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের তৎপরতা ও সাংগঠনিক শক্তি রেড়ে যাওয়ায় হানাদাররা চতুর্মুখি অভিযান চালাতে শুরু করে। জুলাই মাসে পাক হানাদার বাহিনী মুক্তি বাহিনীর ক্যাম্প চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে। সাত/আট দিন অবরুদ্ধ অবস্থায় ছবিরা যুদ্ধ করেন।

পাক বাহিনীর সাথে তারা টিকতে পারছেন না বুঝে অতি সাবধানে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন দিকে সেরে যান মুক্তিযোদ্ধারা। ফিরোজ কবির কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাসহ হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় গারংগল-এ ধরা পড়েন। ১ আগস্ট বরিশাল সেনাক্যাম্পে নির্মমভাবে নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়। ছবির দল বিভিন্ন স্থান ঘুরে পায়ে হেঁটে মঠবাড়িয়া, শাপলেজা, কাকচিরা হয়ে পাথরঘাটার কালিপুরে সেলিম শাহ্‌ নেওয়াজের গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পাথরঘাটার হানাদার বাহিনীর দোসররা ছবিদের অবস্থানের কথা জানতে পারলে ওরা আবার বাগেরহাট-খুলনার বিভিন্ন স্থান ঘুরে সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় হাজারীবাগের ট্যানারির কাছে গোপন আস্তানায় বসবাস শুরু করেন। ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এ সময় তিনি বিভিন্ন গেরিলা অভিযানে অংগ্রহণ করেন।

১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর হানাদার মুক্তি বাংলাদেশ ছবির দু’চোখে স্বপ্ন গাঢ়তর হয়। এবার স্বস্তির সাথে তাদের সংসার হবে। সেলিম শাহ্‌ নেওয়াজের সাথে খুলনাতে সংসার পাতেন তিনি। ১৯৭২ সালের ৩ জুন অজ্ঞাতনামা আততায়ীদের হাতে ঝালকাঠিতে নিহত হন তার স্বামী সেলিম শাহ্‌ নেওয়াজ। আর ৬ জুন ঢাকার ইন্দিরা রোডে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন তার বড় ভাই কুসুমিত ইস্পাত খ্যাত কবি, মুক্তিযোদ্ধা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হুমায়ুন কবির। পরপর তার জীবন থেকে আশ্রয় হারিয়ে গেলে দিশেহারা হয়ে  পড়েন আলমতাজ বেগম ছবি।

তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা তিনি। কার কাছে যাবেন! এমনি হতাশায় হাবুডুবু খেতে খেতেই ৭২ সালের ২২ ডিসেম্বর তার কোল আলো করে আসে শহীদ সেলিম শাহ্‌ নেওয়াজের একমাত্র কন্যা সেলিনা শাহ্‌ নেওয়াজ শিমু। অসহায় বোন ছবিকে ঢাকায় নিয়ে আসেন বড় বোন মঞ্জিলা হক। সেখানে তিন বছর কাটানোর পর আবার বরিশালে ফিরে যান ছবি। সেখানে পিতার সংসারে কাটে আরও ছয় বছর। কিন্তু পিতৃহীন শিশুকন্যা শিমু তখন পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত। ২৪/২৫ বছর বয়সী বিধবা কন্যাকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন পিতা হাবিবুর রহমান। এ সময় হঠাৎ বরিশালের বাসায় আসেন সেলিম শাহ্‌ নেওয়াজের ভাই তৎকালীন সেনাবাহিনীর অডিট সুপার পদে কর্মরত মঞ্জুরুল আলাম, যার স্ত্রী দুই পুত্র ও কন্যা রেখে মারা গেছেন।

অসহায় পিতা হাবিবুর রহমান মঞ্জুরুল আলামকে ছবিকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। শিমু বাবার পরিচয়ে পৈত্রিক বাড়িতে বড় হবে ভেবে ছবি বিয়েতের রাজি হন। বছর পাঁচেক পর দ্বিতীয় কন্যা সারাদিয়াহ বিন্তের আলম নিঝুম-এর জন্ম হয়। দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে আট বছর কেটে যায়। ১৯৮৭ সালে মঞ্জুরুল আলাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ করে মারা যান। দুই কন্যাকে নিয়ে আবার নতুন করে জীবনযুদ্ধ শুরু হয় ছবির। বড় মেয়ে শিমু ১৯৯৩ সেলে বি.এ. পাশ করে একটি প্রাইভেট ফার্মে কর্মরত ছিলেন মায়ের অসুস্থতার কারণে মাকে দেখাশুনা করার কেউ না থাকায় দুই মাস হয় চাকুরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ছোট মেয়ে নিঝুম সকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বি.এ. ১ম বর্ষে অধ্যায়ন করছেন।

তথ্যসূত্রঃ

সংগ্রামী নারী যুগে যুগে, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, ১৯৯৮;
একাত্তরের নারী, মালেকা বেগম, দিব্য প্রকাশ, ২০০৪;
একাত্তরের গেরিলা যোদ্ধা সাক্ষাৎকার, আনিসা জামান চাঁপা


নির্দেশকের কথাঃ

“মুখোমুখি দাঁড়াবার এইতো সময়
শত্রু কে চিনে গাছে অমিত মানুষ।”

মুক্তধারা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র সত্য, সুন্দর ও মানুষের পক্ষে সর্বদাই আপোষহীন, যার প্রতিফলন গটেছে এ যাবতকালীন সবক’টি প্রযোজনায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির গৌরবের ইতিহাস। সেই রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের কথা বারংবার মনে করিয়ে দিয়ে সংস্কৃতিকর্মীরা দায়বদ্ধ। বাঙালির অস্তিত্ব ও চেতনার সাথে বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত, আর অন্যদিকে দেশের সকল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দবীতের সোচ্চার, তখন মুক্তধারার এই প্রযোজনাটির তৃতীয় মঞ্চায়ন সময়েরি যথার্থ দাবী। মুক্তিযুদ্ধবিত্তিক কবিতায় কাজ করতে ব্যক্তি আমি স্বাচ্ছন্দ বোধ করি। আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে ১৯৯৮ সাল থেকে মুক্তধারার সঙ্গে নিয়মিত কাজ করলেও একটি ‘বৃন্দ আবৃত্তি’ নির্দেশনা ছাড়া এটিই ছিল আমার প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রযোজনা। পেশাগত ব্যস্ততাও এর অন্যতম কারণ। কিন্তু এচ্ছাটা ছিল সুপ্ত, যা বাস্তবায়িত হয়েছে আনিসা জামান চাঁআর গ্রন্থনায়। আমার এই দু”সাহসিক অভিযানে অগ্রজ আবৃত্তিশিল্পী, নির্দেশক রফিকুল ইসলামের অভিজ্ঞ মতামতসহ সংগঠনের সকল সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতায় প্রযোজনাটি গতিশীল ও সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠেছে। মুকধারার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞ্রাপন করছি আমাকে ভিন্ন আঙ্গিকে কাজ করার সুযোগ করে দেয়ার জন্যে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে চি ‘আমারি চেতনার রঙে পান্না হ’ল সবুজ’ – অর্থাৎ মুকধারার আবৃত্তিশিল্পীদের চেতনার রঙে এই প্রযোজনাটি প্রণবন্ত হয়ে উঠেছে এবং ক্রমান্বয়ে উঠবে। আমরা বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি সেই সব মানুষদের যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সাহায্যার্থে আয়জিত আজকের এ প্রযোজনাটি তৃতীয় মঞ্চায়ন সার্থক হল।

পরিশেষে, প্রতিটি সচেতন নাগরিকের প্রতি আমাদের আহ্বান –

‘চলো আমরা এগিয়ে যাই
আমাদের সাথে যাবে ত্রিশ লক্ষ রক্তাক্ত হৃদয়।’

নাসিমা খান বকুল
নির্দেশক


গ্রন্থনাঃ আনিসা জামান চাঁপা
নির্দেশনাঃ নাসিমা খান বকুল

স্বরপ্রক্ষেপনঃ

পোষাক পরিকল্পনাঃ মাহমুদা সিদ্দিকা সুমি
আবহসঙ্গীতঃ কমল খালিদ
প্রচ্ছদে ব্যবহৃত ভাস্কর্য ও মঞ্চ পরিকল্পনাঃ হাসিবুর রহমান কিরণ
আলোকঃ স্পট লাইট
শব্দঃ সমীর সাউন্ড
ব্যবস্থাপনাঃ রফিকুল ইসলাম
সার্বিক তত্ত্বাবধায়নঃ আনিসা জামান চাঁপা

কৃতজ্ঞতাঃ

  • জহুর আহমেদ পিএইচডি
  • হাসান আরিফ
  • মো. আহ্‌কাম উল্লাহ্‌
  • লিপিয়া নাসরিন
  • সাব্বির হোসেন
  • আজাদ
  • বোরহানিস সুলতানা সুইটি
  • আক্তারুজ্জামান বাবু
  • শামসুজ্জোহা
  • মার্চেন্ট টিম, এ্যাপেক্স
  • মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর

Mukhomukhi Danrabar Eito Samay 2014