নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলী

Posted on Posted in 2016, Sume20160902

মাহমুদা সিদ্দিকা সুমির আবৃত্তি অঙ্গনে যাত্রা শুরুর সময় ১৯৯৫ সাল। সেই সময় দেখেছিলাম, দুটি বিনুনী ঝুলিয়ে, সুতীর শাড়ী পরিহিতা, হাস্যোজ্জ্বল মুখ কিন্তু বয়োজেষ্ঠ্যতার ছাপ মুখের রেখায় এঁকে নিয়ে সুদৃঢ় ভঙ্গিতে ঘুরে বেড়াতো আবৃত্তি অঙ্গনে তথা টিএসসিতে। পরে জেনেছিলাম ও আমার থেকে বছর দু’এক ছোট হবে। দুর হতে মনে হতো সুমি খুব শক্ত মানুষ। কিন্তু কাছে এলেই টের পাওয়া যায়, ও কতটা নরম। এই নরমে মনের মানুষটি নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দুই দশক পরে এমন একটি মাহেন্দ্রক্ষণে এসে পৌঁছেছে, সে ক্ষণটি প্রতিটি শিল্পীর কাছে আরাধ্য। এই দুই দশকে তার চলার পথ ছিল অমসৃণ। নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সে আবৃত্তি অঙ্গনে তার স্থান করে নিয়েছে। এটুকু সে পেরেছে আবৃত্তিকে ভালোবেসেছে বলেই।

সুমি একজন নিবেদিত প্রাণ সংগঠক। সংগঠন তার খুব আপনার। ঢাকার বাইরে যখন সে থাকতো তখন দেখেছি ওর ভেতর এক অদম্য তাড়না ছিল কখন সে পৌঁছবে তার সংগঠনে, টিএসসিতে। এক দুর্ণিবার আকর্ষণ ওকে সেটে রেখেছে সংগঠনের দেয়ালে, যা আমাকে মুগ্ধ করে।

সুমির আবৃত্তি শুনেছি বহুবার, প্রতিবারই তা এক ভিন্ন মাত্রা তৈরি করেছে। কবি শামসুর রাহমনের কবিতা নিয়ে সুমির গ্রন্থিত পা-ুলিপি “কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমা” যেটির নির্দেশনায়ও ছিল সুমি নিজেই, সেই প্রযোজনাটিও ছিল এককথায় অনন্য।

সুমি শুধু আবৃত্তি, গ্রন্থনা, নির্দেশনাতে বিচরণ করেনি, বিচরণ করেছে নানা আন্দোলনেও। প্রতিটি আন্দোলনে ওকে দেখেছি দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে।
একক আবৃত্তি এমনিতেই আমাকে আলোড়িত করে। উপরন্তু আবৃত্তিশিল্পী যদি একজন নারী হন তখন ভীষণ আনন্দপূর্ণ মনে হয়। আর এই দুঃসাহসী অভিযানে সুমি নির্ভীক চিত্তে এগিয়ে এসেছে তাই তাকে স্যালুট করি। সুমি তোমার আর ঘরে ফেরার সুযোগ নেই। মঞ্চে আবৃত্তি নিয়ে এগিয়ে যাও আর মঘ্চের বাইরে প্রতিটি ন্যায় দাবীতে তুমি থেকো পুরোভাগে, আর আমার ভালোবাসা রইলো তোমার প্রতি।

এই আবৃত্তিসন্ধ্যাটি পরিপূর্ণতা পাক, আর জয় হোক আবৃত্তির। জয় হোক মানবতার।